জীবনী

জীবন ইতিহাস ও মাইলফলক

জীবনবৃত্তান্ত ও পথচলার কালানুক্রমিক ইতিহাস

উপকূলের ধূলিমাটি থেকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রি, এবং অবহেলিত শোভনালীর সেবায় আত্মনিয়োগের জীবন্ত গল্প।

১৯৯৬শোভনালী, আশাশুনি, সাতক্ষীরা

শৈশব ও জন্মভূমি

উপকূলীয় শান্ত পল্লি শোভনালী ইউনিয়নের বাঁকড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত ও ঐতিহ্যবাহী মুসলিম পরিবারে জন্ম ও বেড়ে ওঠা। পিতার নাম ডা. মাওলানা আবুল হোসেন ও মাতার নাম জামিলা সুলতানা স্বপ্না। তিন ভাই বোনের মধ্যে বড়ো। ছোটবেলা থেকেই উপকূলীয় মানুষের জোয়ার-ভাটার সংগ্রাম, নদীভাঙন ও সরল জীবনযাত্রা প্রত্যক্ষ করে মানুষের প্রতি গভীর মমত্ববোধ গড়ে ওঠে।

২০০৬-২০০১৪দাখিল ও আলিমে গোল্ডেন জিপিএ ৫.০০

প্রাতিষ্ঠানিক ও ধর্মীয় শিক্ষার স্বর্ণালি সাফল্য

শৈশবের প্রথম শিক্ষা মা-বাবার কাছ থেকেই। এরপর মক্তবে আরবি পাঠ শেষে স্থানীয় ব্র্যাক প্রি-স্কুল, বাঁকড়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা, হাজীপুর রমেছিয়া কওমিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও বাওচাষ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক পাঠ সমাপ্ত হয়। পরবর্তীতে শরাফপুর মশিউরিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ২০১২ সালে জিপিএ ৫.০০ (A+) পেয়ে দাখিল পাস করেন। এরপর খুলনা দারুল কুরআন সিদ্দিকীয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে ২০১৪ সালে আশাশুনি ও সাতক্ষীরা জেলার মধ্যে অন্যতম শীর্ষ স্থান অর্জন করে আলিম পরীক্ষায় 'গোল্ডেন জিপিএ ৫.০০' পাওয়ার অনন্য গৌরব অর্জন করেন। নৈতিক মূল্যবোধ ও মেধার অনন্য মেলবন্ধনে গড়ে উঠেছে তাঁর শিক্ষার এই মজবুত ভিত্তি।

২০১৫-২০২০বিএসএস অব ইকনোমিক্স (অর্থনীতি)

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা ও নেতৃত্ব

দক্ষিণাঞ্চলের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক সফলতার সাথে সম্পন্ন করেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, বিতর্ক ক্লাব ও আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় যুব ফোরামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

২০২৩-২০৬ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং মার্কেট প্লেসে এয়ার এক্সপোর্ট

পেশাগত সাফল্য ও প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্যোক্তা

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের জন্য ফ্রিল্যান্সিং ও কর্মসংস্থানমূলক প্রশিক্ষণ কর্মশালা পরিচালনা করেন।

২০২০ – ২০২১বিপদের দিনে উপকূলীয় মানুষের পাশে

করোনা মহামারী ও ঘূর্ণিঝড় আম্ফান ত্রাণ কার্যক্রম

ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের ধ্বংসযজ্ঞে শোভনালী ইউনিয়ন যখন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন নিজস্ব উদ্যোগে দুর্গত পরিবারের মাঝে জরুরি খাদ্য, সুপেয় পানি ও চিকিৎসাসামগ্রী পৌঁছে দেন। করোনাকালে 'মাতৃভূমি শোভনালী' সদস্যদের নিয়ে সচেতনতা মূলক ক্যাম্পেইন গড়ে তোলেন। ইউনিয়নের প্রতিটি বাড়িতে বাড়িতে লিফলেট বিতরণ করে নাগরিকদেরকে সচেতন করা হয় । বিতরণ করা হয় মাস্ক ও হ্যান্ডস্যানিটাইজার ।

২০১৮ – বর্তমানজনপ্রতিনিধিত্ব ও নাগরিক সেবার আধুনিকায়ন

স্মার্ট শোভনালী ও চেয়ারম্যান ডিজিটাল কার্যালয় রূপকল্প

সামাজিক নেতৃত্বের সূচনা: ২০১৮ সাল থেকে সামাজিক সংগঠন 'মাতৃভূমি শোভনালী'-র মাধ্যমে ইউনিয়নজুড়ে বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা সমাধানে নিরলসভাবে কাজ সম্পাদন। মেধা মূল্যায়ন ও সংবর্ধনা: প্রতিবছর ইউনিয়ন থেকে এসএসসি/এইচএসসিতে A+ পাওয়া এবং বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগপ্রাপ্ত ১৬০০+ শিক্ষার্থীকে অনুপ্রেরণামূলক সংবর্ধনা প্রদান। পরিবেশ সুরক্ষা: ইউনিয়নজুড়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ১২০০-র বেশি ফলজ ও বনজ বৃক্ষরোপণ। উচ্চশিক্ষায় উদ্বুদ্ধকরণ: স্থানীয় যুবসমাজকে উচ্চশিক্ষায় অনুপ্রাণিত ও দিকনির্দেশনা দিতে নিয়মিত উচ্চশিক্ষা বিষয়ক কর্মশালার আয়োজন। মাদকমুক্ত যুবসমাজ গঠন: তরুণদের খেলাধুলা ও গঠনমূলক কাজে ব্যস্ত রেখে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে নিয়মিত বিভিন্ন ক্রীড়া ও মেধাভিত্তিক প্রতিযোগিতার আয়োজন। অদম্য মেধাবীদের পাশে: অর্থাভাবে যেন কারও পড়াশোনা বন্ধ না হয়, সেজন্য অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপ ও আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা। আমাদের নতুন যুগের রাজনৈতিক অঙ্গীকার: স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা: প্রথাগত রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহারের বিপরীতে একটি পুরোপুরি জবাবদিহিতামূলক 'ডিজিটাল ইউনিয়ন' প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়। প্রযুক্তিনির্ভর জনসেবা: অনলাইন অভিযোগ ট্র্যাকিং, চেয়ারম্যানের সাথে অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট এবং উন্নয়ন বাজেটের উন্মুক্ত অডিট (Open Audit) চালুর মাধ্যমে ইউনিয়নে সুশাসনের এক নতুন ইতিহাস গড়ার অঙ্গীকার।